Published On: রবি, জুন ৪, ২০১৭

ইফতারি পরস্পর ভাগাভাগি করে খাব

ইফতারি পরস্পর ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্যে অশেষ সওয়াব ও বরকত

এহসান বিন মুজাহির :  রমজান ভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতির এবং ভালোবাসার শিক্ষা দিয়ে থাকে। এ মাসের কারণে মানুষ ক্ষুধা ও তৃষ্ণার জ্বালা বুঝতে পারে। এ জন্য এক মুমিনের হৃদয় ধাবিত হয় অন্য মুমিনের সুখ-দুঃখের খবর সন্ধানে। যার বাস্তব রূপ প্রকাশ পায় ইফতারের মাধ্যমে। ইফতারের সময় প্রত্যেক রোজাদার ধনী-গরিব নির্বিশেষে তার পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সাধ্য অনুযায়ী রকমারি ইফতারীর মাধ্যমে রোজার আনন্দ ভোগ করেনন। এই আনন্দের সাথে ইফতারের সময় পথিক, মুসাফির, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয় নির্বিশেষে অসহায় হতদরিদ্রদেও প্রতি খোঁজ রাখাও রমজানের অন্যতম শিক্ষা। নিজেদের ইফতারি পরস্পর ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্যে চরম তৃপ্তি, অশেষ সওয়াব ও বরকত রয়েছে।

সবাই মিলে ইফতারি করি

রমজান মুসলমানদের জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার। ইফতার হলো রমজানের অন্য্যতম উপাদান। ইফতারের সময় হালাল দ্রব্য দিয়ে ইফতার করা পুণ্যের কাজ। হজরত আনাস (রা.) বলেন, হজত রাসূলুল্লাহ (সা.) (মাগরিবের) সালাতের পূর্বে তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর পাওয়া না যেতো তখন শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। আর যদি শুকনা খেজুরও পাওয়া না যেতো তাহলে কয়েক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন’। (মুসনাদে আহমাদ: হাদিস-১২৬৭৬)
খোরমা, খেজুর, কিসমিস, পানি কিংবা জুস-শরবত দিয়ে ইফতার করা উত্তম। রাসুলে আকরাম (সা.) ইফতারের সময় এ দোয়াটি পাঠ করতেন-‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু’। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তোমার জন্য রোজা রেখেছি, আর তোমারই রিজিক দ্বারা ইফতার করছি’।’ আবু দাউদ: হাদিস-২৩৫৮)

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইফতারের সময় নিম্নের দোয়াটিও পাঠ করতেন- ‘যাহাবায জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু, ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ’। (অর্থ: ‘পিপাসা নিবারিত হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরষ্কারও নির্ধারিত হলো। (আবু দাউদ : হাদিস-২৩৫৭)

নিজে একাকী ইফতার করার মাঝে যেমন সওয়াব রয়েছে, তেমনি অন্যদেরও ইফতার করানোর মাঝেও অপরিসীম ফজিলত ও অশেষ সওয়াব রয়েছে। বুখারি শরিফের হাদিসে উল্লেখ আছে-‘ইফতার হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে দুই আনন্দের একটি’। হজরত যায়েদ ইবনে খালিদ জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-‘কেউ যদি রোজাদারকে ইফতার করায় তবে তারও একই সওয়াব হবে। তবে এতে রোজাদারের সওয়াবের মাঝে কোনো ঘাটতি হবে না (তিরমিজি)
এ সম্পর্কে বুখারি ও মুসলিম শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন-‘কেউ যদি রমজান মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করায় তাহলে ইফতার করানোটা তার গুনাহ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং সে রোজাদার ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। অথচ রোজা পালনকারীর সওয়াব মোটেই কমানো হবে না’।

বায়হাকিতে বর্ণিত, হজরত রাসুলে আকরাম (সা.) এরশাদ করেন-‘রমজান মাসে কোনো রোজাদার ব্যক্তিকে কেউ যদি একটা শুকনো খেজুর অথবা সামান্য পানি দ্বারা ইফতার করায়, আল্লাহ তায়ালা রোজ কেয়ামতে তাঁকে হাউজে কাওসারের পানি পান করাবেন, যাতে তার বেহেশত গমন পর্যন্ত কোনো তৃষ্ণাই অনুভব হবে না। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি কোনে রোজাদার ব্যক্তিকে পরিতৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে আল্লাহ তাকে আমার হাউজে কাওছার থেকে এমন ভাবে পানি পান করাবেন যার ফলে, সে জান্নাতে না পৌছানো পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না’। (মিশকাত: ১৭৪ পৃস্টা)
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন- ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে:১. ইফতারের সময়। ২. মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়’। বুখারি ও মুসলিম)

ছবি : ৥৥৥ নবসংবাদডটকম

রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করায় তাদের উভয়ের সমান সওয়াব হয়, অথচ ইফতার গ্রহীতার সওয়াবে কিঞ্চিত পরিমাণও কম করা হয় না । (সুনানে নাসাই ও মুসনাদে আহমদ)
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়ে থাকে। হজত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া কখনও বিফলে যায় না, অবশ্যই কবুল হয়ে থাকে। (আমলুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলা, ইবনুস সুন্নি, হাদিস: ৪৮১) রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘ইফতার করার সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়ে থাকে’। (আবু দাউদ শরিফ)

ইফতারের মুহূর্তটি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার সময়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইফতারের সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অগণিত বনি আদমকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। আর এ মুক্তি ঘোষণা প্রতি রাতেই চলতে থাকে। সে সময় রোজাদার প্রত্যেক বান্দা-বান্দীর দোয়া কবুল হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২২০২)
আল্লাহপাক আমাদেরকে পারস্পরিক সহমর্মিতা, ধনী-গরিবের মধ্যকার ভালোবাসার সম্পর্ক সুদৃঢ় করার তাওফিক দান করুন।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আরও খবর

(Visited 1 times, 1 visits today)

Editor : Rahmatullah Bin Habib


55/B, Purana Palton, Dhaka-1000


Email : nobosongbad@gmail.com


copyright @nobosongbad.com


ইফতারি পরস্পর ভাগাভাগি করে খাব