Published On: মঙ্গল, জুলা ৪, ২০১৭

সামরিক কর্মকর্তা থেকে একই এলাকার জনপ্রতিনিধি

সম্পর্কে তাঁরা পিতা -পুত্র

স্টাফ রিপোর্টার : পৃথিবী তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একটি পরিবার পাওয়া যাবে না যেখানে পিতা-পুত্র দুজনই সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন এবং সামরিক কর্মকর্তা থেকে অবসরপ্রাপ্তির পর দুজনই একই এলাকায়, একই সময়ে, একই রাজনৈতিকদল থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগনের সেবা করে যাচ্ছেন। এমনই দুজন জনপ্রতিনিধির দেখা মিলেছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায়। তাঁরা হলেন- কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব:) সুবিদ আলী ভূইয়া এবং তাঁর পুত্র আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব:) মোহাম্মদ আলী সুমন। বিষয়টি একদিকে যেমন সেনাবাহিনীর মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ভূমিকা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বহন করছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মদান ও অজ¯্র মা- বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পেয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুন্ন রেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ।

অতীতে সামরিক অফিসার পদে থাকা অবস্থায় এবং বর্তমানে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে মেজর জেনারেল (অব:) সুবিদ আলী ভূইয়া বলেন, ‘আমি যখন সামরিক কর্মকর্তা ছিলাম তখনও চেষ্টা করেছি দাউদকান্দির জনগনের উন্নয়ন করার এবং আমি তা করেছিও- বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থান আমি করেছি, আমার নিজ গ্রামে একটি হাসপাতাল, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা-এতিমখানা, একটি কলেজসহ বহু প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছি। আমি সামরিক কর্মকর্তা থাকা অবস্থা থেকেই এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়ন করেছি। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামীলীগ থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কুমিল্লা-১ আসন থেকে দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আমার নির্বাচনী এলাকায় গত ৮ বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে দুই উপজেলায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ২০০ কিলোমিটার পাকা রস্তা, বিদ্যুতায়িত হয়েছে শতভাগ, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে ১২০০০ পরিবারকে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার ও নির্মাণে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। গত ৮ বছর ধরে এই মহান সংসদে কুমিল্লা উত্তর সাংগঠনিক জেলাকে আলাদা জেলা ঘোষণার দাবি আমি জানিয়ে আসছি। এটা জেলা হলে সহজে মেঘনা, হোমনা, মুরাদনগর, দাউদকান্দি, চান্দিনা, দেবীদ্বার, তিতাসের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিকসহ নানাবিধ দুর্ভোগ লাঘব হবে। এর সাথে ৩০ লাখ মানুষের স্বার্থ জড়িত।

এই ক্ষেত্রে সার্বিক বিচারে দাউদকান্দিকে হেডকোয়ার্টার করে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে। আমার নির্বাচনী এলাকা মেঘনা উপজেলার চালিভাঙা ইউনিয়ন থেকে কোন লোক প্রশাসনিক বা ব্যবসায়িক কাজে কুমিল্লা শহরে যেতে হলে আগের দিন কুমিল্লা গিয়ে থাকতে হয়। কারণ চরাঞ্চলের এই উপজেলার বেশির ভাগ অঞ্চল থেকে বাহিরে যেতে পাঁয়ে হেঁটে, ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে পরে বাস বা গাড়িতে করে যেতে হয়। এতে ৪/৫ ঘন্টা বেশি সময় লেগে যায়। একই অবস্থা হোমনা ও তিতাস উপজেলারও। এই অঞ্চলটি প্রশাসনিকভাবে অবহেলিত হওয়ায় শিক্ষা-দীক্ষা-ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। দাউদকান্দি একসময়ের নৌবন্দর। মেঘনা-গোমতীর তীর ঘেঁষা এই উপজেলাটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। রেল ছাড়া সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে দাউদকান্দি থেকে। দাউদকান্দি থেকে কুমিল্লা সদরের দূরত্ব ৫০ কি.মি.। ঢাকার দূরত্ব ৪০ কি.মি.। নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের দূরত্ব ৩০ কিমি.। মুন্সীগঞ্জ সদরের দূরত্ব ২৫ কিমি.। সার্বিক বিবেচনায় দাউদকান্দি জেলা হওয়ার মতো উপযুক্ত স্থান।

আওয়ামীলীগের মনোনয়নে নির্বাচিত দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব:) মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্বার গতিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে চলেছেন। তাঁর এই উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক ঝাক তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজন। আমি সেই তরুণ নেতৃত্বেরই অংশ। ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার যতটুকু দায়িত্ব পালন করার তা আমি করে যাচ্ছি।’

আরও খবর

(Visited 1 times, 1 visits today)

Editor : Rahmatullah Bin Habib


55/B, Purana Palton, Dhaka-1000


Email : nobosongbad@gmail.com


copyright @nobosongbad.com


সামরিক কর্মকর্তা থেকে একই এলাকার জনপ্রতিনিধি