Published On: রবি, অক্টো ১, ২০১৭

৮৪% রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন চলছেই। এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতনের মুখে ইতোমধ্যে ৮৪ শতাংশ রোহিঙ্গা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তুরস্কের আনাদুলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ১৯৭০ সাল থেকে ৮০ শতাংশ রোহিঙ্গা মুসলিম নিজ জন্মভূমি রাখাইন রাজ্য ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী হয়েছে।

 আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মতে, ১৯৭০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১১ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ভারত এবং গালফ ও এশিয়া প্যাসিফিক দেশগুলোতে শরণার্থী হয়েছেন।

ইউরোপিয়ান কমিশন এক রিপোর্টে বলেছে, ২০১৭ সালের শুরুর দিকেও রাখাইনে আনুমানিক ৮ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমের বসবাস ছিল।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমার সেনার অভিযানের পর থেকে সংঘাতে ৫ লাখ এক হাজার রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকারের ধারণা, আর মাত্র ৩ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাণ বাঁচাতে ১৬ লাখের মতো রোহিঙ্গা প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
আর এসব তথ্যের ভিত্তিতে এটা স্পষ্ট, ১৯৭০ সাল থেকে ৮৪ শতাংশের (প্রায় ১৯ লাখ) কাছাকাছি রোহিঙ্গ মুসলিম মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। আর মাত্র ১৬ শতাংশ রোহিঙ্গা দেশটিতে রয়েছেন।

এই সংখ্যায় প্রমাণ করে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে কতটা জাতিগত নিধনের শিকার!

সাম্প্রতিক সংঘাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা নির্বিচারে রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষদের হত্যা করে। গ্রামবাসীদের অকথ্য নির্যাতন ও বাড়িঘরে আগুন দিয়ে লুটপাট চালায়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, গত ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইনে ৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। আর প্রাণ বাঁচাতে নাফ নদী পাড়ি দিতে গিয়ে নারী-শিশুসহ দেড় শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনি গুতেরেস বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেন, রাখাইনে সহিংসতা রোহিঙ্গাদের খুব দ্রুতই বিশ্বের বড় উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীতে পরিণত করেছে, যা মানবিকতা ও মানবাধিকারের জন্য দুঃস্বপ্নের জন্ম দিয়েছে।

২০১২ সালেও একই ধরনের সংঘাতে রাখাইনে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছিল।

১৯৮২ সালে মিয়ানমার সরকার জাতীয়তা বিষয়ক আইন পাস করে, যেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করা হয়। এরপর থেকেই রাষ্ট্রহীন এই মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিড়াতনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কাজ শুরু করে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

Editor : Rahmatullah Bin Habib


55/B, Purana Palton, Dhaka-1000


Email : nobosongbad@gmail.com


copyright @nobosongbad.com


৮৪% রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত