Published On: রবি, অক্টো ২২, ২০১৭

খুলনায় মঙ্গলবার আসছে ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম

ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, মিয়ানমারে ধারাবাহিকভাবে চলা বর্বরোচিত রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা, ধর্ষণ, বাড়ী-ঘরে অগ্নিসংযোগ ও পাশবিক নির্যাতন ইতিহাসের সকল বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে জীবন বাঁচাতে লক্ষ্য লক্ষ্য রোহিঙ্গা পরিবার সীমান্ত পেরিয়ে টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এসব অসহায় মানুষকে পুশব্যাক না করে আশ্রয় দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন, যা ইতোমধ্যে বিশ্ব দরবারে সাধুবাদ পেয়েছে। ইতিমধ্যে আগত রোহিঙ্গা নাগরিকের সংখ্যা ৫ লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে বলে জাতিসংঘ বললেও আমাদের দৃষ্টিতে তা আরও বেশি বলেই মনে হয়। একত্রে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্ত এলাকায় প্রবেশের ফলে আশ্রয়প্রাপ্ত নারী-পুরুষ ও শিশুদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার অভাব মহামারী আকার ধারন করেছে। যে সকল রাষ্ট্র অসহায় রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে আমরা তাদেরও ধন্যবাদ জানাই। সাথে সাথে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আমরা হতাশ হয়েছি। সেই সাথে মিয়ানমার সরকার ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

রবিবার বেলা ১২টায় নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড় এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে চরমোনাই পীরের জনসভা সফলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের নগর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত আগস্টের ২৫ তারিখ থেকে আরাকানে মিয়ানমার সরকারী বাহিনী ও মগ সন্ত্রাসীদের জুলুম নির্যাতন ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার মাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ফলে দলে দলে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়ে। তাদের পরিমাণ প্রতিদিনই বাড়তে থাকলে টেকনাফ-উখিয়ায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়। অবস্থা বিবেচনায় এদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জরুরী মিটিংয়ে বসে। দলের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই নির্দেশে জরুরী ত্রাণ তৎপরতা চালানো হয়। সে অনুযায়ী গঠিত হয় কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিল, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত হয় ত্রাণ বিতরণ ও মনিটরিং সেল। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা পরিবহন সুবিধা ও খাবার বিতরণ করলেও ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয়তার আলোকে বাড়তে থাকে এর পরিধি। সীমান্ত অতিক্রম করে আসা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে পৌঁছানোর ব্যবস্থা , শুকনো খাবার বিতরণ, লঙ্গরখানার মাধ্যমে রান্না করা খাবার বিতরণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, শিশুখাদ্য অর্থাৎ দুধ, চিনি, বিস্কুট সরবরাহ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে মেডিকেল ক্যাম্প করে ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান, স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ, অস্থায়ী ঘর তৈরীর সামগ্রী বিতরণ ও অনেককে ঘর নির্মাণ করে দেয়া, বাথরুম তৈরী, গভীর ও অগভীর নলকুপ স্থাপন, অস্থায়ী মসজিদ ও মক্তব নির্মাণ, কুরআন শরীফ বিতরণ ইত্যাদি কাজ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ধারাবাহিকতার সাথে আঞ্জাম দিয়ে আসছে।

পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় নদী পারাপারের সুবিধার জন্য বাঁশ ও কাটের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। একই সাথে বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের শিকার থেকে পালিয়ে আসা হিন্দু পরিবারের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহতারাম আমীর চরমোনাই পীরের নির্দেশে ত্রাণ বিতরণ ও সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। আমাদের সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ত্রাণ তৎপরতায় আমাদের সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের সমম্বয়ে গঠিত মনিটরিং সেল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।

তিনি বলেন, দলের খুলনা মহানগর ও জেলাসহ একাধিক টিম সেখানে পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেছি। সেখানে ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিতে দেখেছি দেশের অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকে, অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দাড়িয়েছে, এমনকি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে শামিল হয়েছেন এই মানবতার মিছিলে। সবার উদ্দেশ্যই ছিল নির্যাতিত, নিপীড়িত অসহায় মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে কিছুটা হলেও তাদের কষ্ট লাঘব করা। বিপদে পরে আমাদের দেশে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো যেন বাংলাদেশ সম্পর্কে উচ্চ ধারনা পোষন করতে পারে সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টার কোন কমতি ছিল না। অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাড়িয়ে আমরা বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে এদেশের মানুষ কতটা মানবিক।

তিনি আরো বলেন, অত্যন্ত দুঃখ এবং পরিতাপের বিষয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের শুধু নির্যাতনই করা হয়নি, তাদের সকল প্রকার নাগরিক ও মানবিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। মানবতার খাতিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর চাপ সৃষ্টি করতে ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে সরব রয়েছি। পীর সাহেব চরমোনাইর নেতৃত্বে গত বছর ১৮ ডিসেম্বর মিয়ানমার অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম যা সরকারে উর্ধতন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের বাধার সম্মুখীন হয় । এবারও রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা শুরু হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজধানীসহ সারাদেশে একাধিকবার বিক্ষোভ সহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি।

এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর প্রদত্ত স্মারকলিপিতে রোহিঙ্গাদের সসম্মানে নাগরিকত্ব দিয়ে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারের আরাকানে ফিরিয়ে নেয়াসহ ১১ দফা দাবী পেশ করা হয়। এসব দাবি আদায়ের লক্ষে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ও মজলুম রোহিঙ্গাদের পক্ষে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত আছে থাকবে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী মঙ্গলবার ২৪ (অক্টোবর) দুপুর ২ টায় খুলনা ডাকবাংলা সোনালী ব্যাংক চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলার যৌথ উদ্যোগে বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি থাকবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সম্মানিত আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই)। জনসভা সফলের লক্ষে ইতিমধ্যে নগরীতে ব্যাপকভাবে পোস্টার লাগানো, হ্যান্ডবিল ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। জনসভা বাস্তবায়নে মহানগর ও জেলা কমিটির সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী বাস্তবায়ন কমিটি ও কয়েকটা উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জনসভা সফলের লক্ষে সকল থানা সহ মহানগরে একাধিক প্রস্তুতি সভা করা হয়। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি মাওঃ আব্দুল্লা্হ ইমরান, জনসভা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও নগর সহ সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, মাওঃ মুজ্জাফ্ফার হোসাইন, মাওঃ আবু সাইদ, মুফতী আমানুল্লাহ, শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, মাওঃ ইমরান হুসাইন, জি এম সজিব মোল্লা, মোঃ আবু গালিব, মোঃ আব্দুর রশিদ, মোঃ রবিউল ইসলাম, জি এম কিবরিয়া, মাওঃ দ্বীন ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম, যুব নেতা মোঃ ইসমাইল হোসেন, মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, শ্রমিক নেতা মোঃ জাহিদুল ইসলাম, মোঃ আবুল কালাম আজাদ, ছাত্র নেতা শেখ আমিরুল ইসলাম, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ নাজিম ফকির , মোঃ জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও খবর

(Visited 1 times, 1 visits today)

Editor : Rahmatullah Bin Habib


55/B, Purana Palton, Dhaka-1000


Mobile : 01734 255166 & 01785 809246 । Email : nobosongbad@gmail.com


copyright @nobosongbad.com


খুলনায় মঙ্গলবার আসছে ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম