Published On: শুক্র, আগ ৫, ২০১৬

যে ভবনের ৭২ পরিবার বৃষ্টির পানিতে দৈনন্দিন কাজ সারবে

bg20160805112252
চট্টগ্রাম: একবার টয়লেট ফ্লাশ করতে খরচ হয় ৬ লিটার পানি। একজন দিনে তিনবার ফ্লাশ করলে দরকার ১৮ লিটার পানি। ৬৫ লাখ মানুষ যদি দিনে অন্তত এক লিটার পানি ধোয়া-মোছার কাজে ব্যবহার করে তবে ৬৫ লাখ লিটার পানি ব্যবহার করছে। এসব পানি হয় ভূ-গর্ভের নয়তো ওয়াসার। যা খাবার পানি হিসেবেই ব্যবহার করে নগরবাসী। অথচ বৃষ্টির পানি টয়লেট ফ্লাশ, ধোয়া-মোছা, বাগানে সেচ ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করলে সাশ্রয় হবে কোটি কোটি লিটার পানি।

পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া, ভূ-গর্ভে পানির স্তর ক্রমে নিচে নেমে যাওয়া ইত্যাদি কারণে খাবার ‍পানির উৎসগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ ক্রান্তিকালে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো একটি আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যাতে টয়লেট, ধোয়া-মোছা ও বাগানে ব্যবহার করা হবে বৃষ্টির পানি। নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় ‘অ্যাকর্ড এইচডি প্যালেস’ নামের বহুতল ভবনটি তৈরি করছে অ্যাকর্ড হোল্ডিংস লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শাহজাহান মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চট্টগ্রামে প্রথম বহুতল আবাসিক ভবন প্রকল্পে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং পদ্ধতিতে বৃষ্টির পানি ধারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুযোগ রাখার অনুমোদন দিয়েছে। এর জন্য আমরা সিডিএ চেয়ারম্যানের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে উদ্বুদ্ধকরণের জন্যে দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে), সুইডেন ভিত্তিক রেইন ফোরামের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্যেও বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। যদি আমাদের পাইলট প্রকল্পটি সফল হয় তবে আমাদের পরবর্তী সব প্রকল্পে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম রাখবো। আশাকরি, অন্য ডেভেলপাররাও এ ব্যাপারে আগ্রহী হবে।

অ্যাকর্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সেলিম চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ২২ কাঠা জায়গা রয়েছে প্রকল্পে। এর মধ্যে ১৯ কাঠার ওপর বেইজমেন্ট, পার্কিং ফ্লোর ছাড়াও নয় তলা ভবনটি তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যে পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে গেছে। প্রতি ফ্লোরে আটটি করে মোট ৭২টি ফ্ল্যাট থাকবে। আশাকরি ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে।

তিনি জানান, ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি ১ লাখ লিটারের একটি জলাধারে (ট্যাংক) সংরক্ষণ করা হবে। চার মাসে ১৯ লাখ লিটার সংগ্রহ ও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। যে পানি ৭২ পরিবারের বাথরুমের টয়লেট ফ্লাশ, কিচেনে ধোয়া মোছা, বাগানে সেচ, গাড়ি ধোয়া ইত্যাদি কাজে ব্যবহারের জন্যে আলাদা লাইন দেওয়া হবে। এ ছাড়া ওয়াসার লাইন থেকে পানি নিয়ে শুধু খাওয়ার কাজে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হবে। আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গভীর নলকূপ থাকবে।

তিনি জানান, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংয়ের জন্যে মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১ শতাংশ খরচ বাড়ছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজারে দুটিসহ চট্টগ্রামে মোট ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে অ্যাকর্ড হোল্ডিংস লিমিটেড।

রেইন ফোরামের সচিব স্থপতি মো. আশরাফুল আলম বাংলানিউজকে জানান, চট্টগ্রামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়। এ পানি যদি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যায় তবে ৬০ ভাগ পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। অ্যাকর্ড হোল্ডিংস এক্ষেত্রে উদাহরণ সৃষ্টি করলো চট্টগ্রামে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে অদূর ভবিষ্যতে পানির সংকট দেখা দেবে। ভূগর্ভ থেকে পানি তোলা কঠিনতর হয়ে যাবে। নগরীর কিছু এলাকায় ৯০০ ফুট নিচ থেকে পানি তুলতে হচ্ছে। নদীর পানি ক্রমে লবণাক্ত হয়ে পড়বে। যদি লবণাক্ত পানি শোধন করে খাওয়ার উপযোগী করা হয় তবে তার দাম পড়বে অনেক বেশি। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ব্যবহারে উদ্যোগী হতে হবে এখনি।

সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইদ্রিস আলী বাংলানিউজকে বলেন, আগে বৃষ্টির পানি ৮০ ভাগ মাটির নিচে ফিল্টার হতো, ১০ ভাগ বাষ্প হতো এবং ১০ ভাগ নদীতে পড়তো। এখন ৮০ ভাগই নালা-খাল দিয়ে নদী-সাগরে চলে যাচ্ছে। মাটি তো নেই, সব জায়গায় স্ল্যাব, পাকা। ফিল্টারিংয়ের সুযোগ নেই। ১০ ভাগ যাচ্ছে মাটির নিচে। ১০ ভাগ বাষ্প হচ্ছে। তাই ওয়াসার পানির ওপর নির্ভর না করে আমাদের পানির বহুমুখী ব্যবহার (মাল্টিপল ইউজ) নিশ্চিত করতে হবে। ২০২২ সালে লবণ পানি শোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে ওয়াসা। এটি হলে শোধন খরচ যেমন বাড়বে তেমনি সিসাসহ বিভিন্ন ধাতব উপকরণ থেকে যাবে। যা এখন মধ্যপ্রাচ্যে দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, ব্যবহারই আমাদের জন্যে উত্তম।

তিনি বলেন, সময় এসেছে বহুতল ভবনগুলোতে যে পানি ব্যবহৃত হচ্ছে তা পুনরায় রিসাইক্লিং করে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা। কারণ জ্বালানি তেলের বিকল্প আছে কিন্তু পানির বিকল্প নেই।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বাংলানিউজকে বলেন, আমি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। তাই শুধু আলোচনা নয়, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ভবনে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছি। যদি তারা সফল হয় তবে অনেকেই এগিয়ে আসবে। এ শহরকে আগামী প্রজন্মের জন্যে বাসযোগ্য রাখতে যা যা করা দরকার আমরা করতে চাই।

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>


Editor : Rahmatullah Bin Habib


55/B, Purana Palton, Dhaka-1000


Email : nobosongbad@gmail.com


copyright @nobosongbad.com


যে ভবনের ৭২ পরিবার বৃষ্টির পানিতে দৈনন্দিন কাজ সারবে