Published On: রবি, ডিসে ২৪, ২০১৭

খুলনায় তিনটি সরকারি স্কুলে পুনঃ ফলাফলের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ বাদপড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

খুলনা জেলা প্রশাসক ও ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আমিন উল আহসান গতকাল খুলনা জেলা বই মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সফটওয়্যারে সমস্যার কারণে প্রথম ঘোষিত ফলাফলে ত্র“টি-বিচ্যুতি ব্যাপক ছিল। এটা যখনি বুঝতে পেরেছি-তখনি ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে ভর্তি পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়ন করে পুনরায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করার নেই। আমি নিজেও প্রচন্ড বিব্রত। টেকনিক্যাল ত্র“টি জানার পর ভর্তি পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়ন ও ফলাফল পুনরায় প্রকাশ না করলে বড় ধরনের অনিয়ম থেকেই যেতো।” এখানে কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতির সুযোগ নেই।নগরীর সরকারি স্কুলগুলোতে পুনরায় প্রকাশিত ফলাফলের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ বাদ পড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। গতকাল ২৩ ডিসেম্বর ‘১৭(শনিবার) খুলনা জিলা স্কুল ও সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে, খুলনা প্রেসক্লাব ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেছেন তারা। জিলা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর দিবা বিভাগে ৫৭ ও সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৭৬ জন ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী পুনঃ ফলাফলে বাদ পড়েছে। সেস্থলে প্রথম ফলাফলে নেই এমন শিক্ষার্থীরাই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ সময় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাঁদতে দেখা যায়।অভিভাবকদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ সেলিম হোসেন। তিনি বলেন, গত ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর খুলনা জিলা স্কুলসহ নগরীর সাতটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুসারে ওইদিন পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কথা, কিন্তু পরীক্ষা কমিটি ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘ ৭২ ঘন্টা সময় নেয়া হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২১ ডিসেম্বর সকালে ফলাফল প্রকাশিত হয়। ওইদিন ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ভর্তি ফরম সংগ্রহ করে। কিন্তু সর্বকালের ইতিহাস পাল্টে ২১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে জেলা প্রশাসক ও ভর্তি কমিটির সভাপতি এক বিবৃতিতে পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করেন। ২৪ ঘন্টা পর পূর্ব ঘোষিত ফলাফল বাদ দিয়ে নতুন ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে পূর্বের মেধা তালিকায় সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ছাত্র বাদ পড়েছে। কাদের স্বার্থে কোমলমতি শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে এই অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য করা হলো তা খুলনাবাসী জানতে চায়। অবিলম্বে পূর্ব ঘোষিত ফলাফল বহাল রেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভর্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় উচ্চ আদালতে মামলা করাসহ তারা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন। আজ রবিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক ও ভর্তি কমিটির সভাপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করবেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। তৃতীয় শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিকু, ওবাইদুল্লাহ, রজিনা খাতুন, আরমান হোসেন, হাফিজা খাতুন, আসলাম হোসেন, শামীমা আক্তার, মোহাম্মদ আলী, আলমগীর কবির, বেলায়েত হোসেন, আলী হোসেন, সাইফুজ্জামান, সাহীনা আক্তার, কুমকুম বেগম, গণেশ বিশ্বাস, অশোক দাস, আফরোজা খানম, রাবেয়া আক্তার, হাফিজা খাতুন, আসলাম হোসেন, রাজীব, ইউসুফ আলী, মামুন ও মনা প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, খুলনা জিলা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর দিবা বিভাগের ১২০টি সিটের মধ্যে ৫৭ শিক্ষার্থীর ফলাফল পুনঃপ্রকাশে রদবদল হয়েছে। আর সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ১২০টি সিটের মধ্যে রদবদল হয়েছে ৭৬ জন শিক্ষার্থীর। এছাড়া দৌলতপুরের সরকারি মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও কয়েকটি সিটে রদবদল হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (মন্নুজান স্কুল), গভঃ ল্যাবরেটরী হাইস্কুল, কেডিএ খানজাহান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম প্রকাশিত ফলাফলই পুনরায় প্রকাশিত হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। তবে বিক্ষুব্ধ খুলনা জিলা স্কুল ও সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। খুলনা জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার প্রথম ঘোষিত ফলাফলে মেধা তালিকায় ১ম আব্দুল্লাহ্ আল ফাহিম, ৩য় শেখ রাতুল, ৬ষ্ঠ তৌহিদ ফকির, ১৩তম শাত মোঃ আজওয়াদ হোসেন মিরাজ, ১৮তম এম হাসান ইমাম তামিম, ৪৪তম ওমর ফারুক, ৪৯তম শাহরিয়ার আহমেদ রিমেল, ৫০তম প্রাপ্য ভৌমিক, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৫১তম আকিব হাসান, ৫২তম মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, ৫৭তম মোঃ রাব্বী জামান রাতুল, ৫৯তম মোঃ মোঃ রাহাদুল ইসলাম সিহাব, ৮১তম মোঃ তামিউল হাওলাদার এবং ১০৫তম মোঃ ফয়সাল আফ্রিদীর সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা কারো পুনঃ ঘোষিত ফলাফলের তালিকায় স্থান হয়নি। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, সেন্ট যোসেফ স্কুলসহ নগরীর বেসরকারি স্কুলের মধ্যে তুলনামূলক ভাল প্রতিষ্ঠান গুলোতে তৃতীয় শ্রেণীকে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। জিলা স্কুলে প্রথমে উত্তীর্ণ এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কোথায় ভর্তি হবে? ইতোমধ্যে তারা খাওয়া ছেড়ে দেয়ায় অসুস্থ হবার উপক্রম। এসব অশ্র“সিক্ত শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন কেন প্রথম ঘোষিত ফলাফল বাতিল করা হলো? অপরদিকে, সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার প্রথম ঘোষিত ফলাফলে মেধা তালিকার প্রথম থেকে ১৫তমের মধ্যে ৯ ও ১৩নং ব্যতীত কেউ পুনঃ ঘোষিত তালিকায় নেই। এ স্কুলে ৭৬ জন ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী পুনঃ ফলাফলে বাদ পড়েছে। খুলনা প্রেসক্লাবে গতকাল সকালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন অপরূপা রায়। কান্না বিজড়িত কণ্ঠে সে জান চাইলো, “জেলা প্রশাসক স্যার কেন এমনটি করলেন? এখন আমি কোথায় পড়বো? এছাড়াও কথা হয়-প্রথম প্রকাশিত ফলাফলের মেধা তালিকার ৫ম নুসরাত জাহান ঐশি, ১২তম লামিয়া আক্তার সৌটি, ৩৮তম অপরূপা রায়, ৪৮তম সুষ্মিতা মন্ডল, ৫৫তম লামিয়া রহমান অথৈ, ৭৫তম ইসরাত জাহান মীম, ৬৩তম নুসরাত লামিয়া, ৯১তম মাহিরা শেখ, ৯৩তম মুনিয়া রহমান অহনা ও ৯৯তম নুসরাত জাহান মীম ও অরুপ বিশ্বাসের কন্যা অধরা বিশ্বাসের সাথে। প্রত্যেকেই পুনঃ ঘোষিত ফলাফলের তালিকায় স্থান না পাওয়ায় মর্মাহত। এই স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ১২০টি আসনের মধ্যে প্রথম ঘোষিত ফলাফলের ৭৬ জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী রদবদল হয়েছে। প্রথম মেধা তালিকায় থাকলেও পরবর্তী তালিকায় নাম নেই অপরূপা রায়ের। তার মা বললেন, “আমার মেয়েটা আজ দু’দিন কিচ্ছু মুখে দিচ্ছে না। বার বার বলছে-পড়ালেখা করেছি, তাও তোমার মন ভরেনি। বকাবকি করছো, এখন…! এর কথার কি উত্তর দিবো? কোমলমতি শিশুদের নিয়ে এ কেমন নিষ্ঠুর খেলা করছে ওরা?”

 

(Visited 1 times, 1 visits today)

Editor : Rahmatullah Bin Habib


55/B, Purana Palton, Dhaka-1000


Email : nobosongbad@gmail.com


copyright @nobosongbad.com


খুলনায় তিনটি সরকারি স্কুলে পুনঃ ফলাফলের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ বাদপড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা